কেন ২০২৫-এ ফেসবুক এখনো বাংলাদেশের নাম্বার-১ সেলিং প্ল্যাটফর্ম?
২০২৫ সালে বাংলাদেশে ফেসবুকে পণ্য বিক্রি করে মাসে ১ লাখ টাকা আয় করা একদম বাস্তবসম্মত। প্রতিদিন ৪.৫ কোটি+ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে এবং এখানেই সবচেয়ে বেশি ক্যাশ অন ডেলিভারি অর্ডার হয়। দারাজ-পিকাবু যতই বড় হোক, সাধারণ ক্রেতারা এখনো ফেসবুক পেজ আর গ্রুপের উপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করে। আমার ছাত্র-ছাত্রীরা এখন শুধু ফেসবুক দিয়েই মাসে ৮০ হাজার থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রফিট করছে। তুমিও পারবে – শুধু সঠিক নিয়ম মানলেই।
২০২৫-এ সবচেয়ে বেশি চলছে কসমেটিক্স, মোবাইল কভার-চার্জার, লেডিস থ্রি-পিস-হিজাব, বেবি প্রোডাক্ট আর হোম ডেকোর আইটেম। এগুলোর প্রফিট মার্জিন ১৫০% থেকে ৫০০% পর্যন্ত। শুরুতে একটা ক্যাটাগরি বেছে নাও – আমি সবচেয়ে বেশি সাজেস্ট করি কসমেটিক্স বা মোবাইল অ্যাকসেসরিজ। চকবাজার, ইসলামপুর বা AliExpress থেকে হোলসেলে কিনে ৩-৫ গুণ দামে বিক্রি করা যায়।
প্রথমে একটা নতুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে বিজনেস পেজ তৈরি করো। পেজের নাম রাখো ব্র্যান্ডেবল – যেমন “Rina Cosmetics BD” বা “Gadget Bazaar BD”। Canva-তে সুন্দর লোগো আর কভার ফটো বানিয়ে লাগাও। Settings থেকে Shop ট্যাব চালু করো এবং WhatsApp Business নাম্বার লিঙ্ক করে দাও। এতে কাস্টমার সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার করতে পারবে।
পোস্টিং হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সকাল ৮টা, দুপুর ২টা, রাত ৮টা আর রাত ১১টায় পোস্ট করো। পোস্টে ৪-৬টা হাই কোয়ালিটি ছবি দাও – প্রথম ছবি প্রোডাক্টের ক্লোজআপ, বাকিগুলো রিয়েল কাস্টমার রিভিউ বা ভিডিও। ক্যাপশনে লেখো – “আপু এই লিপস্টিক লাগালে ঠোঁট হবে কোরিয়ান গার্লের মতো, মাত্র ৩৯০ টাকা, ক্যাশ অন ডেলিভারি সারা বাংলাদেশ, স্টক মাত্র ৫০ পিস”। এ ধরনের ক্যাপশনেই সবচেয়ে বেশি ইনবক্স আসে।
বুস্টিং ছাড়া কিছুই হবে না। প্রতিদিন ৩০০-৬০০ টাকা বুস্ট করো। অবজেক্টিভ “Messages” রাখো, টার্গেট করো ১৮-৪৫ বয়সের মহিলা, লোকেশন ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-খুলনা, ইন্টারেস্ট Cosmetics-Daraz-Fashion। ৫০০ টাকায় ৪০০-৮০০ মেসেজ আসবে এবং ৩০-৬০টা অর্ডার কনফার্ম হবে।
ফ্রি ট্রাফিকের জন্য ১০০+ বড় গ্রুপে জয়েন হও – Dhaka Buy Sell, Ladies Fashion BD, Bikroy Bazar ইত্যাদি। প্রতিদিন ২০-৩০টা গ্রুপে পোস্ট করো। সপ্তাহে ৩-৪ দিন লাইভে প্রোডাক্ট দেখাও – একটা লাইভেই ৫০-২০০ অর্ডার আসতে পারে। ফেসবুক রিলস বানাও – Before-After, Unboxing, Try-on – একটা রিলস ভাইরাল হলে রাতারাতি হাজার হাজার অর্ডার চলে আসে।
অর্ডার ম্যানেজমেন্ট খুব সহজ। কাস্টমার ইনবক্স করলে হোয়াটসঅ্যাপে নাম-ঠিকানা-প্রোডাক্ট নিয়ে কনফার্ম করো। ঢাকায় নিজে বা কর্মচারী দিয়ে ডেলিভারি দাও। ঢাকার বাইরে Pathao/RedX/SA Paribahan দিয়ে পাঠাও – কাস্টমার কুরিয়ার চার্জ দিবে। প্রতিদিনের অর্ডার একটা এক্সেল শিটে লিখে রাখো।
প্রফিট হিসাবটা এরকম – গড়ে প্রতি অর্ডারে ৩৫০-৪০০ টাকা প্রফিট। দিনে ১২-১৫টা অর্ডার হলেই মাসে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রফিট। আমার এক ছাত্রী সুমি আপু শুধু কসমেটিক্স বিক্রি করে গত মাসে ৫.২ লাখ টাকা প্রফিট করেছে – শুরু করেছিল মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়ে।
শুরু করার জন্য ১৫-৩০ হাজার টাকা ইনভেস্ট আর প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট। প্রথম ৭ দিন একটু ধৈর্য ধরো – তারপর অর্ডারের বন্যা চলে আসবে। আজই তোমার পেজ খুলে প্রথম পোস্ট দিয়ে দাও। কোন প্রোডাক্ট দিয়ে শুরু করবে কমেন্টে জানাও – আমি পার্সোনালি গাইড করব।
ফ্রি বোনাস চাইলে নিচে ইমেইল দাও – পাঠিয়ে দিব ১০০টা রেডিমেড পোস্ট টেমপ্লেট + ২০২৫-এর হটেস্ট প্রোডাক্ট লিস্ট + অর্ডার ট্র্যাকিং এক্সেল শিট। আজ শুরু করো – ৩০ দিন পর তোমার সাকসেস স্টোরি শেয়ার করবে ইনশাআল্লাহ।



0 মন্তব্যসমূহ